আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা।

একজন সুস্থ মানুষ দিনে দু’চামচ আপেল সিডার গ্রহণ করতে পারেন। এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন এটি যেনো কখনোই সরাসরি গ্রহণ না করা হয়। অবশ্যই পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাবেন।সরাসরি এটি খেলে আপনার খাদ্যনালীর সমস্যা দেখা দিতে পারে। আসুন জেনে নেই কীভাবে আপেল সিডার ভিনেগার খাবেন বা খাওয়ার নিয়মকানুন কেমন-

সঠিক উপায় অবলম্বন করে এই ভিনেগার সেবন করবেন। কখনোই অতিরিক্ত মাত্রায় এটি সেবন করতে যাবেন না। এতে নানানধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা সমূহ জেনে নেয়া যাক-

  • রান্নায় ব‍্যবহার করা যাবে।তরকারিতে ব‍্যবহার করা যাবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।তাই যদি রোজ ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ করবে আমাদের।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায‍্য করে থাকে।রাতে ঘুমানোর আগে দুই চামচ পানিতে গুলে খেলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি সাহায্য করবে।
  • নিয়মিত খেলে এটি ত্বক সুন্দর করতে সাহায্য করবে।এবং দাগমুক্ত ও উজ্জ্বল করবে।
  • চুলের রুক্ষতা ও চুল পড়ে যাওয়া দূর করে থাকে।
  • অন‍্যন‍্যা ভিনেগারের থেকে বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও উপকারি।
  • পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী এটি সেবন করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবেন।

স্বাস্থ‍্য সচেতন ও নিরোগ থাকতে স্বাস্থ‍্য তথ‍্য জেনে ও তা মেনে চলুন।সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করুন।

আপেল সিডার ভিনেগার ব‍্যবহারের উপকারিতা ও এর অপকারিতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জেনে নেয়া যাক-

ভিনেগার রান্নায় ব্যবহৃত অতি পরিচি্ত একটি উপাদান যা সিরকা নামেও পরিচিত। এই ভিনেগার বা সিরকা বেশ কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। তার মধ্যে ইদানীং বহুল পরিচিত একটি ভিনেগার হচ্ছে আপেল সিডার ভিনেগার।

আপেল সিডার ভিনেগার আসলে কি-আসুন জেনে নিই

এটি মূলত আপেলের রস বা নির্যাস থেকে তৈরি। আপেলের রস কে প্রক্রিয়াজাত করে অ্যালকোহলে পরিনত করা হয়। পরবর্তীতে সেই অ্যালকোহল কে অ্যাসিডিক রূপ দেওয়া হয় যা আমরা আপেল সিডার ভিনেগার হিসেবে আমরা পেয়ে থাকি।

কীভাবে ব্যবহৃত হয় আপেল সিডার ভিনেগার-চলুন জেনে নেয়া যাক?

সাধারণত এই আপেল সিডার ভিনেগার রান্না করা তরকারিতে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এটি রান্নায় ব্যবহার করা ছাড়াও আরও বেশ কিছু উপায়ে ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য ভিনেগারের মতন এটিও খাবার সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া ফলমূলে বিদ্যমান ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ দূরীকরণের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার লক্ষনীয় হয়ে থাকে।

আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা কি কি জেনে নেয়া যাক : আপেল সিডার ভিনেগার আমাদের বেশ কিছু উপকার সাধন করে থাকে

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে:;

ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি খুবই কার্যকর। আপেল সিডার ভিনিগারকে যদি রোজ ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে খুব সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়। তবে সেটা অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। এই উপাদানটি গ্রহণ করার ফলে এমনেতেই খিদে কমে যেতে শুরু করে। আর যার ফলস্বরূপ কম পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করায় স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমতে সময় লাগে না। এছাড়াও এর প্রধান উপাদান হলো অ্যাসিটিক অ্যাসিড, যেটা ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই এর সাথে পরিমাণমতো সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও করতে হবে। তবেই ওজন কমবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে :;

ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারী। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র দুই টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার খেলে, সকালে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ার গতি চার শতাংশ কমে যায়। যাদের ডায়াবেটিস নেই, তারাও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ভিনেগার খাওয়ার অভ্যাস করে নিতে পারেন। এই ভিনেগার কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে থাকে।

ত্বকের যত্নে আপেল সিডার ভিনেগারের ব‍্যবহার:;

দাগমুক্ত ত্বক পেতে চাইলে এটি খুবই উপকারী। এটি টোনার হিসেবে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে প্রথমে মুখ পরিষ্কার করেন নিবেন তারপর টোনারের মত করে তুলো দিয়ে এই ভিনেগার লাগাবেন, তারপর প্রতিদিন ব‍্যবহারের ক্রিম টাই লাগাবেন মুখে। এতে করে ত্বকের দাগ ধীরে ধীরে হালকা হতে থাকবে এবং মুখের ব্রণ কমবে। ••প্রতিদিন ত্বকে আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করলে ত্বকে মরা কোষ নষ্ট হয়ে যায় ••ত্বক উজ্জ্বল হতে সহায়তা করে। ••স্কিনের PH-এর সমতা রক্ষা করে। ••মুখে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ কমাতে সাহায‍্য করে।

আম খেলে ভালো ঘুম হবার পেছনের কারণ কী ?

চুলের যত্নে আপেল সিডার ভিনেগার:; যাদের চুল রুক্ষ হয়ে যায়, ফেটে যায়, চুল পড়ে তারা চুলে শ্যাম্পু করার পর এই ভিনেগার চুলে লাগাতে পারেন। একটি স্প্রে বোতলে অথবা কোন বোতলে ৩ চামচ এটি নিয়ে এবং এক কাপ পানি মিশিয়ে রেখে দিবেন। শ্যাম্পু করার পর স্প্রে করবেন পুরো চুলে। নিয়মিত চুলে এটি ব্যবহার করার ফলে নতুন চুল গজাবে এবং চুলের রুক্ষতা দূর করতে সাহায‍্য করবে।

◆অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে তা গলা ও ত্বকের ক্ষতির কারণ হতে পারে এটি।

◆ সেবন করলে অনেকের রক্তের পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যায় যাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলে। তাছাড়া হাড়ের ঘনত্বও কমে যায় অনেক সময় এর ফলে।

◆অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, পেটেব্যথার মত সমস্যাগুলো হতে পারে। কখনোই ভিনেগার সরাসরি খেতে যাবেন না। এতে আপনার খাদ্যনালীর সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী এটি সেবন করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবেন। স্বাস্থ‍্য সচেতন ও নিরোগ থাকতে স্বাস্থ‍্য তথ‍্য জেনে ও তা মেনে চলুন।সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করুন। করণা বিষয়ক তথ‍্য ও পুষ্টিতথ‍্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। সুস্থ থাকুন,ভালো থাকুন।

নতুন নতুন মোবাইল এর আপডেট পেতে ভিজিট করুন

লেখক : নুসরাত জাহান নিত্তিয়া

লেখক : নুসরাত জাহান নিত্তিয়া

One thought on “আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *